যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অবিলম্বে ইরানে হামলা বন্ধ না করলে বৃহত্তর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে বলে সতর্ক করেছেন জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। রোববার বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যু ও ইরানে হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
সমাবেশে তিনি বলেন, ইরানের জনগণ বহু শতাব্দী ধরে শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করে এসেছে। সেই সংগ্রামের ফল ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব। এই শক্তিকে দুর্বল করার জন্য বহু বাহ্যিক শক্তি চেষ্টা চালালেও জনগণের প্রতিরোধের মুখে তারা পরাজিত হয়েছে। তাই ইরানের শক্তি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, শুধু গণতন্ত্রের কথা বললে হবে না, তা বাস্তবে মানতে হবে। নিজের দেশে যেমন মানতে হবে, তেমনি অন্য দেশেও গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে কয়েকটি দেশে গণতন্ত্র টিকে থাকলেও তা স্থায়ী হবে না।
জাতিসংঘের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংস্থাটি এখন কয়েকটি দেশের স্বার্থরক্ষাকারী শক্তি হিসেবে কাজ করছে। শান্তিকামী দেশগুলোর পক্ষে তাদের অবস্থান দেখা যায় না। এভাবে চলতে থাকলে জনগণ একদিন প্রশ্ন তুলবে—এ সংস্থার আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে কি না।
মুসলিম বিশ্বের সংগঠন ওআইসির ভূমিকা নিয়েও তিনি হতাশা ব্যক্ত করেন। তার মতে, মুসলিম দেশগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন হিসেবে ওআইসির দায়িত্ব অনেক, কিন্তু তারা সেই ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি ওআইসিকে যথাযথ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে এর প্রভাব বাংলাদেশসহ বহু দেশে পড়বে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, জিনিসপত্র ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাবে, আর এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠবে।








