ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমানকে একই ওয়ার্ডের জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মিজানুর রহমান খাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ৩১ নম্বর সদস্য হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি তৎকালীন আইনমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। দলীয় সভা-সমাবেশ ও কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন এবং নিজেকে একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তুলে ধরতেন। ২০১৯ সালে ঘোষিত ইউনিয়ন কমিটিতেও তিনি একই পদে ছিলেন।
তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে মিজানুর রহমানকে জামায়াতে ইসলামীর খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আমির হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
খাড়েরা ইউনিয়ন বিএনপির শ্রমিক দলের সভাপতি নাসিরুদ্দিন বলেন, “হাসিনা সরকারের সময় আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি নানা সুবিধা ভোগ করেছেন। এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর পর নিজের অবস্থান রক্ষায় জামায়াতে আশ্রয় নিয়েছেন—এটি জনগণের অজানা নয়।”
ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য সচিব বাবুল মিয়া বলেন, “জনপ্রতিনিধির বারবার রাজনৈতিক অবস্থান বদল দুঃখজনক। রাজনীতি আদর্শের জায়গা হলেও এখানে আমরা কেবল ব্যক্তিস্বার্থের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।”
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, “আমি আগে যেমন মেম্বার ছিলাম, এখনো আছি। সেই হিসেবে হয়তো আমাকে কোথাও নাম দিয়ে রাখা হয়েছে। যখন যে সরকার থাকে, সাধারণত তার সঙ্গেই থাকতে হয়। কে কখন নাম দিয়েছে, তা আমি জানি না।”
খাড়েরা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির শরীফ উদ্দিন বলেন, “বছরখানেক আগে মিজান মেম্বারকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আমির করা হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের সদস্য—এ তথ্য আমার জানা ছিল না।”
কসবা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির পীরজাদা শিবলী নোমানী বলেন, “মিজান মেম্বার আওয়ামী লীগের সদস্য—এ তথ্য আগে জানা ছিল না। যদি এলাকাবাসী কোনো অভিযোগ তোলে, আমরা বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”









