জামায়াতের এমপি প্রার্থীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের এক নেতার গণসংযোগ।

আ.লীগ নেতাকে নিয়ে জামায়াতের এমপি প্রার্থীর গণসংযোগ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) পদপ্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরীকে নিয়ে নির্বাচনী গণসংযোগে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুর এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনের জামায়াতের এমপি প্রার্থী ও দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সায়েদ আল মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় গণসংযোগ করেন। পরে সন্ধ্যায় বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তারা অভিযোগ করেন, ভোটের মাঠে সুবিধা নিতে জামায়াত এখন ‘স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের’ নেতাদের কাছাকাছি যাচ্ছে।

এ ঘটনায় কর্ণফুলী উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাহেদুল ইসলাম শামীম বলেন, “জুলাই আন্দোলন নিয়ে প্রকাশ্যে কটূক্তিকারী আওয়ামী লীগের সভাপতিকে নিয়ে জামায়াতের প্রার্থী গণসংযোগ করছেন—এটা রাজনৈতিক পতনের চূড়ান্ত রূপ। ক্ষমতার আশায় তারা আদর্শ বিসর্জন দিচ্ছে।”

কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক প্রকৌশলী হারুনুর রশীদ বলেন, “জামায়াতে ইসলামী এখন কৌশলে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক করে তুলছে। এটা জুলাই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি।”

জাতীয় নাগরিক পার্টির কর্ণফুলী উপজেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী ইমরান হোসেনও ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের নেতার সঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর প্রকাশ্য সখ্যতা গণতন্ত্র ও নৈতিকতার জন্য লজ্জাজনক। ছাত্রজনতার ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে তারা কলুষিত করছে।”

তবে ঘটনাটি অস্বীকার করে জামায়াতে ইসলামীর কর্ণফুলী শাখার আমির মনির আবছার চৌধুরী বলেন, “স্থানীয় অনেকেই আমাদের সঙ্গে ছিলেন, মাহমুদও তাদের মধ্যে একজন। আমরা কাউকে নিষেধ করতে পারি না।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *