জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় ঘোষণা শুরু করে।
প্যানেলে বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীরও উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার আগে ১২টা ২৫ মিনিটে গ্রেপ্তার আট আসামিকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয় এবং তাদের উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত রায় পড়েন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
গ্রেপ্তার আট আসামি হলেন—ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।
পলাতক অবস্থায় থাকা আট আসামি হলেন—ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
এ মামলার ঘটনায় নিহত সাতজন হলেন—সজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম। গত বছরের ২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়। উপস্থিত আট আসামির সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। এর আগে ২ জুলাই প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেন আদালত। অভিযোগপত্রের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার তথ্য, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়।
রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে নিরাপত্তা দায়িত্বে রয়েছেন, পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও সতর্ক অবস্থানে আছেন।









