বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাসে বিচারকের সামনে বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুল রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বুধবার বেলা সাড়ে বারোটার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে তার নিজ চেম্বার থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে হাজির করলে বিচারক এসএম শরীয়াত উল্লাহ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মানুন উল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
লিংকনকে গ্রেপ্তারের পর আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করেন আইনজীবীরা। তারা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের অপসারণ দাবি করেন। বিক্ষোভের মধ্যে গারদ খানার সামনে আইনজীবীদের অবস্থানের কারণে লিংকনকে কারাগারে নিতে বাধার মুখে পড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উত্তেজনাকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আদালত এলাকায় সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ ফেব্রুয়ারি। সেদিন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুসকে জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে আদালত বর্জন করেন আইনজীবীরা। বিকেলে বিচারকার্য চলাকালে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন সাদিকুল রহমান লিংকন এবং বিচারকের সামনে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন। ঘটনার দৃশ্য আদালতের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয় এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি হাফিজ আহমেদ বাবলু বলেন, বিস্ফোরক মামলায় সাধারণ মানুষকে যেখানে জেলা জজ আদালত থেকে জামিন নিতে হচ্ছে, সেখানে নিষিদ্ধ দলের নেতারা নিম্ন আদালত থেকেই জামিন পাচ্ছেন—এ ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছে। তিনি জানান, বিচারকের অপসারণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বর্জন কর্মসূচি চলবে।









